why-read-books

tasnim / এপ্রিল 19, 2021

কেন বই পড়বো (পর্ব-২)

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গত পর্বে বই পড়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিল। আজকের লেখাটি এই ধারাবাহিক প্রবন্ধের দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব, যেখানে বই পড়ার আরো কিছু মূল্যবান উপকারিতা সর্ম্পকে আলোচনা করা হয়েছে।

অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ

না, পাঠ্যপুস্তক হতে শিক্ষা গ্রহণের কথা আবার ভেবে বসবেন না কিন্তু। এখানে অন্য শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন রকম বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বায়োগ্রাফি তথা আত্মজীবনী লেখা থাকে। উক্ত আত্মজীবনীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিভিন্ন রকমের সফলতা ও ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা থাকে। আত্মজীবনীমূলক বই গুলো পড়লে সাধারণ মানুষ উক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সফলতা দেখে যতটা না অনুপ্রাণিত হতে পারবে ঠিক ততটাই তাদের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন রকম বইয়ে লেখকের নানা রকম অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে। আর উক্ত অভিজ্ঞতাগুলো পড়ে নিলে সাধারণ মানুষের নানা রকমের শিক্ষা অর্জিত হয়ে থাকে।

ধরা যাক আপনি নতুন কোনো একটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি নিশ্চিত নন উক্ত ব্যবসায় সফলতা আদৌও অর্জন করতে পারবেন কি না। এক্ষেত্রে আপনার যে কাজটা করা উচিত তা হল, আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত ভালো একটা বই সম্পূর্ণ পড়ে ফেলা। যেখানে উক্ত ব্যবসা সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের ব্যবসায়ীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং সেখান থেকে আপনি জানতে পারবেন কি করলে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করা হবে এবং কি করলে আপনি ব্যবসায় ব্যর্থ হবেন না। তাই বলা যায়, বই পড়ার মাধ্যমে অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন কিছু শিক্ষা অর্জন করা যায়। এটি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নয়। ছাত্রজীবনে প্রচুর বই পড়ে অন্য ব্যক্তিদের সফলতা ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে যে কেউ তার বর্তমান ছাত্র জীবন উন্নত করতে সক্ষম হবে।


স্মরণশক্তি বৃদ্ধি

ছাত্রজীবনে দেখা যায় বিভিন্ন রকমের সমস্যা থেকে সবথেকে বেশি যেই সমস্যাটার মুখোমুখি ছাত্ররা হয়ে থাকে সেটি হচ্ছে স্মরণ শক্তির অভাব। ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে থাকে। কেননা পড়া মনে রাখতে না পারলে শিক্ষকের বকাঝকা তো রয়েছেই, সেই সাথে নিজের ব্যর্থ ফলাফলের ও একটি ভয় থেকে থাকে। সুতরাং স্মৃতিশক্তি তথা স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করার সকল রকমের প্রচেষ্টা যেন সব ধরনের মানুষই জীবনের বেশির ভাগ সময় করতে থাকে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আপনার নিজের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য বই পড়ার উপকারিতা অপরিহার্য। একটা উপন্যাস পড়ার সময় যতই পৃষ্ঠা এগোতে থাকবেন ততই আপনার পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোর তথ্য মনে রাখার প্রয়োজনীয়তা মনে করবেন। কেননা উক্ত তথ্যগুলো মনে না থাকলে পরবর্তী ঘটনার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে সক্ষম হবেন না। এভাবে বেশি বেশি বই পড়লে বেশি বেশি তথ্য মনে রাখার একটা অনুশীলন আপনার নিজের অজান্তেই হয়ে যাবে, যা পরবর্তীতে আপনাকে বিভিন্ন রকমের জিনিস মনে রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে ছাত্রদের তার শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ফলাফল করার জন্য বিভিন্ন তথ্য মনে রাখতেও সহায়তা করবে। কেননা অনুশীলনটা বিনোদনের মাধ্যমে আগেই করিয়ে নেওয়া হয়েছে।


শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি

জীবনে বিভিন্ন রকমের কাজ করার জন্য শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা অনেক। সেটা লেখালেখির কোন কাজ হোক কিংবা কথোপকথনের কাজই হোক না কেন শব্দভাণ্ডারের প্রয়োজনীয়তা সর্বক্ষেত্রেই অনেক বেশি। শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি করার এই অনুশীলনটি হতে পারে বই পড়ার মাধ্যমে। কেননা বইয়ে এমন সকল শব্দ আপনি পেয়ে যেতে পারেন যেটার সাথে আপনি ইতোপূর্বে পরিচিত ছিলেন না। এভাবে প্রতিনিয়ত ও বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে আপনার শব্দ সম্পর্কিত জ্ঞান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।


লেখনি শক্তি বৃদ্ধি

ভবিষ্যতে যারা নিজেদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে চায় তারা যেন বেশি বেশি বই পড়ে নেয়। কেননা বই যত বেশি পড়বেন তত আপনার লেখনি শক্তি বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যৎ লেখকদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে তা হলো বই পড়ার অভ্যাস। একমাত্র এই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই লিখনের শক্তি অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আপনি প্রাতিষ্ঠানিক লেখক হিসেবে পরিচিত হতে পারবেন।


ক্রিটিকাল থিংকিং বৃদ্ধি

ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর গুরুত্ব সর্বক্ষেত্রেই অনেক বেশি। যেকোনো প্রয়োজনে আপনার মস্তিষ্কের ক্রিটিকাল থিংকিং ব্যবস্থা সচল হওয়া অনেক বেশি প্রয়োজন। যারা অনেক বেশী ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে পারেন দেখা যায় যে, যে কোনো রকমের বিপদে তাদের মাথা সবসময় ঠান্ডা থাকে এবং তারা খুব সহজেই চিন্তাভাবনা করে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আর এই ক্রিটিকাল থিংকিং বিষয়টি বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় বই পড়ার মাধ্যমে। বিশেষ করে থ্রিলার কিংবা গোয়েন্দা উপন্যাসগুলো পড়লে মস্তিষ্ক জটিল চিন্তাধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।


একাগ্রতা বা মনোযোগ বৃদ্ধি

মানুষের মন এমন একটা জিনিস যেটাকে এক জায়গায় দীর্ঘক্ষন ধরে রাখা অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার। এই কষ্টকর জিনিসটা খুব সহজে করার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। দেখা যায় যে, কোন রোমাঞ্চকর বই পড়ার সময় একটানা দীর্ঘক্ষণ বইয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়। এতে করে শুধু বই না যেকোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলনটাও কিন্তু হয়ে থাকে। ছাত্রদের এই মনোযোগ দীর্ঘক্ষন এক জায়গায় ধরে রাখার অনুশীলনটা করা অনেক বেশি প্রয়োজন। তাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এই মনোযোগ ধরে রাখার ব্যাপারটা অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। তাই মনোযোগ ধরে রাখার এই চর্চাটা বই পড়ার মাধ্যমে হয়ে যাক।


মানসিক শান্তি

বই পড়ার মাধ্যমে মানসিক শান্তি অর্জিত করা সম্ভব। বিশেষ করে যে সকল বইয়ের উপন্যাসের কাহিনীতে হ্যাপি এন্ডিং হয়। সেই সকল বই পড়ে সম্পূর্ণ শেষ করার মাধ্যমে একটা মানসিক প্রশান্তি নিজের ওপর ভর করে আসে এবং সেই অনুভূতিটা নিত্যান্তই অনেক সুন্দর। এই মানসিক প্রশান্তি অনুভব করতে হলেও যেন সকলে বই পড়ে।


ভালো ঘুম

যারা ইনসোমনিয়া কিংবা নিদ্রাহীনতার মত অস্বস্তিকর সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা যেন বেশি বেশি বই পড়ে। কেননা অতিরিক্ত বই পড়ার ফলে ব্রেইনের অনেক ব্যবহার করা হয়। তাই ব্রেইন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং বিছানায় শোয়া মাত্রই রাজ্যের ঘুম চোখে ভর করে। একবার এই ঘুম ঘুমাতে পারলে দীর্ঘক্ষণ সুন্দর ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই নিদ্রাহীনতায় ভুগলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার থেকে আপনাদের প্রতি পরামর্শ রইল বেশি বেশি বই পড়বেন।

 

সুপ্রিয় পাঠক ! আশা করা যায় আর্টিকেলটি আপনারা উপভোগ করেছেন এবং কিছুটা হলেও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আজ তাহলে এখানেই ইতি টানছি। ধন্যবাদ।

(Visited 46 times, 1 visits today)


শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •