whang-od-the-worlds-oldest-tattoo-artist

tasnim / এপ্রিল 27, 2021

পৃথিবীর সবথেকে বৃদ্ধ ট্যাটু আর্টিস্টের অবাক করা তথ্য

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেশ প্রাচীনকাল থেকে শরীরে বিভিন্ন নকশা খোদাই করে ভিন্ন এক রকমের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করার চল ছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে ট্যাটু বলা হয়। সারাবিশ্বে বর্তমানে নানান ধরনের অসংখ্য ডিজাইনের ট্যাটুর প্রচলন রয়েছে । ঠিক তেমনি রয়েছেন অসংখ্য ট্যাটু আর্টিস্ট। ট্যাটু শুধু বর্তমান প্রজন্মের ফ্যাশন এর অন্তর্গত নয় বরং বেশ প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ট্যাটুর প্রচলন ছিল।

ট্যাটু শিল্পের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ নিয়ে পরে ভিন্ন কোন লেখায় আলোচনা করা হবে। আজকের আর্টিকেলটিতে মূলত আলোচনা করা হবে পৃথিবীর সবথেকে বৃদ্ধ ট্যাটু আর্টিস্টকে নিয়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার ট্যাটু শিল্পে আসার ইতিহাসটা কী এবং কেন তিনি পৃথিবীতে এত বিখ্যাত।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে প্রায় ২ দিনের দূরত্বে অবস্থিত বুসকালান গ্রামে ওয়াং ওড নামের এক মহিলা বসবাস করেন যার বয়স ১০৩ বছর। তিনি এই পৃথিবীর সবথেকে বৃদ্ধ ট্যাটু আর্টিস্ট।

ফিলিপাইনের যে স্থানে ওয়াং ওড নামক এই বৃদ্ধা বসবাস করে সেই স্থানের ট্যুরিস্টদের আনাগোনা অনেক বেশি। বলা হয়ে থাকে ফিলিপাইনের বেশিরভাগ টুরিস্ট সেই দেশ ভ্রমন করে শুধুমাত্র এই বৃদ্ধার কাছ থেকে ট্যাটু খোদাই করার জন্য, সী-বিচ দেখার জন্য নয়।

ওয়াং ওড নামক পৃথিবীর সবথেকে বৃদ্ধ এই ট্যাটু আর্টিস্ট এর ট্যাটু শিল্প করার পদ্ধতি একেবারেই ভিন্ন। তার ট্যাটু শিল্পের সাথে আপনি বর্তমানের ট্যাটু করার কোন মিল পাবেন না। প্রথমত বর্তমানের ট্যাটু শিল্পীরা সাধারণত আপনার পছন্দমত ডিজাইন আপনার শরীরে খোদাই করে দিয়ে থাকেন, কিন্তু পৃথিবীর সবথেকে বৃদ্ধ এই ট্যাটু আর্টিস্ট আপনাকে আপনার পছন্দ মত ট্যাটু ডিজাইন করে দিবেন না। বরং তার নিজস্ব অর্থবোধক কিছু ট্যাটুর ডিজাইন থেকে আপনাকে পছন্দ করে নিতে বাধ্য করবে। তার কালেকশনে থাকা বিভিন্ন রকমের ট্যাটু ডিজাইন বিভিন্ন রকমের অর্থ প্রকাশ করে। এই অর্থের উপর ভিত্তি করেই তিনি ট্যাটু করে থাকেন।

এই নারী নিজেই ট্যাটু শিল্পের কালি তৈরি করেন কয়লা ও পানির মিশ্রনের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, শরীরে ট্যাটু খোদাই করার জন্য যেই রকমের সুঁচের প্রয়োজন সেটাও তার নিজের সংগ্রহ করা। এই সুই সাধারণত গাছের কাটা থেকে নেওয়া হয়ে থাকে। তার নিজের ট্যাটু শিল্পের অন্যরকম পদ্ধতি রয়েছে। তিনি সুই শরীরে ফুটিয়ে দিয়ে তার উপর অন্য বস্তু দ্বারা ক্রমাগত আঘাত করে  ডিজাইন চামড়ায় ফুটিয়ে তোলেন। এই বৃদ্ধার ১০৩ বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুব দ্রুত সুচে আঘাত করতে পারেন। এক মিনিটে ১০০ এর অধিক আঘাত দেওয়া তার পক্ষে এই বয়সেও সম্ভব! এটা তার নিজস্ব পদ্ধতি। এই পদ্ধতি সত্যিই বেশ যন্ত্রণাদায়ক। অসহ্য রকমের যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি যদি আপনার না থাকে তবে এই বৃদ্ধার কাছে ট্যাটু করতে না যাওয়াই ভালো। প্রতি ট্যাটুর জন্য তিনি মাত্র ২০ ডলার করে নিয়ে থাকেন। যা অনেক কমই বলা যায়।

Whang-od-tattooing


এবার চলুন এই ট্যাটু আর্টিস্ট এর ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

প্রাচীনকাল থেকেই ট্যাটু শিল্পের প্রচলন ছিল। তবে সেসময় ট্যাটুর প্রচলন ছিল সাধারণত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। তখন তারা বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাস এর উপর ভিত্তি করে নিজেদের গায়ে ট্যাটু খোদাই করে নিত। তাদের এই কাজের পিছনে মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস, অপশক্তি থেকে রক্ষা ও অন্যান্য বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল। সেখান থেকেই ট্যাটুর প্রচলন। প্রায় এক হাজার বছর আগে এরকমই এক গোত্রের মানুষেরা ট্যাটু তৈরি করা শুরু করেন। কিন্তু তারা তাদের এই ট্যাটু ডিজাইন শুধুমাত্র নিজেদের গোত্রের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখতো। অন্য কাউকে করে দিতেন না। তাদের এই ট্যাটু করার উদ্দেশ্য ছিল ভাগ্য কিংবা যুদ্ধে অথবা বিয়েতে শান্তির জন্য শুভকামনা জানানো। এছাড়াও কোন শত্রুকে দমন করার জন্যও তারা বিশেষ রকমের ট্যাটু ডিজাইন করে নিত। ওয়াং ওড তাদেরই এক গোষ্ঠী থেকে এই ট্যাটু ডিজাইন দেখে দেখে আয়ত্ত করা শিখে নেন এবং তাদের প্রচলিত ট্রেডিশন ভেঙে দিয়ে তিনি বিভিন্ন টুরিস্ট বা ভ্রমণকারীদের দেহে ট্যাটু তৈরি করা শুরু করে দেন। তার মতে জুয়েলারি তথা গহনা যেভাবে নারী কিংবা পুরুষ এর সৌন্দর্যতা ফুটিয়ে তোলেন ঠিক সেভাবেই ট্যাটুও তাদের দেহের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলতে সক্ষম।

এই গোত্রের অন্যান্য ট্যাটু আর্টিস্টরা মারা যাওয়ার ফলে ওয়াং ওড একমাত্র ট্যাটু আর্টিস্ট যিনি কিনা গ্রামে বেঁচে আছেন এবং তিনি নিজের ট্যাটু ডিজাইন নিজেই করেন। তিনি তার দুই নাতনিকেও এই ট্যাটু ডিজাইন শিখিয়েছেন যাতে করে তার মৃত্যুর পরও তার তৈরি ট্যাটু শিল্প অব্যাহত থাকে। তিনি বলেছেন যতদিন পর্যন্ত তার দৃষ্টিশক্তি অক্ষত থাকছে ততদিন পর্যন্ত তিনি ট্যাটু শিল্প বন্ধ করবেন না। তার বিশ্বাস তিনি মারা গেলেও অসংখ্য মানুষের স্কিনে ট্যাটুর মাধ্যমে আরও এক হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবেন।

সুপ্রিয় পাঠক, আজ এখানেই ইতি টানছি , আর্টিকেলটি কেমন লাগলো তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। ধন্যবাদ।

(Visited 26 times, 12 visits today)


শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •