Forbidden island

pujadhar / আগস্ট 8, 2020

নিষিদ্ধ দ্বীপের কথা

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে

পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজারো দ্বীপ। কিছু দ্বীপে বহু বছর ধরে মানুষ বসবাস করছে আবার কিছু দ্বীপে মানুষের বসবাস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আজ আপনাদের জানাবো তেমনি কিছু নিষিদ্ধ দ্বীপের কথা।

স্ন্যাক আইসল্যান্ড, ব্রাজিল

ইলহা দা কুইমাদা গ্র্যান্ডে ব্রাজিলিয়ান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত। তবে এটি স্ন্যাক আইসল্যান্ড হিসেবে বিশ্বজুড়ে বেশি পরিচিত। যখন সমুদ্রের স্তর বেড়ে যাওয়াতে মূল ভূখন্ডে প্রবেশের পথটি বন্ধ হয়ে যায় তখন সোনালী ল্যানহেড পিট ভাইপার্স সাপের একটি বড় দল এখানে আটকা পড়েছিল। দ্বীপের পরিবেশ ছিলো সাপদের বংশবিস্তারের জন্য স্বর্গরাজ্য, আস্তে আস্তে তারা বংশ বিস্তার শুরু করে এবং বর্তমানে প্রায় প্রতি বর্গক্ষেত্রে একটি করে সাপ  রয়েছে । ফলে  এই দ্বীপে কোন মানববসতি নেই,দর্শনার্থীদের ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্যাস মাস্ক আইসল্যান্ড, জাপান

টোকিওর দক্ষিণে, জাপানের আইজু দ্বীপপুঞ্জে মারাত্মক সালফার-স্পিওং-আগ্নেয়গিরি প্রত্যক্ষ করা যায়। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং প্রচুর পরিমাণে সালফারের কারণে এখানে ঘন ঘন আগ্নেয়গিরি হয়ে থাকে, যার মধ্যে মিয়া-জিমা সবচেয়ে ভয়ানক। ২০০২ সালে, এই দ্বীপ থেকে সব বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হলে তার পাঁচ বছর পর আবার বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয় কিন্তু সব সময় মাস্ক পরে থাকার শর্তে। সেই থেকে এই দ্বীপ গ্যাস মাস্ক আইসল্যান্ড নামে পরিচিত। নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বর্তমানে এই দ্বীপটিতে কেউ বসবাস বা যাওয়ার সাহস করে উঠতে পারেনা।

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপপুঞ্জ, ভারত

বঙ্গোপসাগরের উত্তরে সেন্টিনেল দ্বীপটির অবস্থান। এটি সেন্টিনালিজ নামে পরিচিত একটি উপজাতির বাসস্থানস্থল। তবে বাইরের কোন মানুষের সেখানে প্রবেশ করার অনুমতি নেই। এই দ্বীপটিতে নেই কোন আধুনিকায়নের ছোঁয়া। ভারত সরকার সেন্টিনালিজদের একা থাকার আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেন এবং কোন রকম হস্তক্ষেপ করেন না।

রি-ইউনিয়ন আইসল্যান্ড, ফ্রান্স

২০১১, সালের পর থেকে এই দ্বীপে প্রচুর হারে হাঙ্গরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ও হাঙ্গরের আক্রমণে প্রাণনাশের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। তাই, ২০১৩ সাল থেকে দেশটির সরকার এই দ্বীপে সমস্ত সাঁতার ও সার্ফিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। বর্তমানে, সাধারণের প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও এক সময় এই দ্বীপের জনসংখ্যা ছিলো ৮,৬৫,০০০.

সাবা দ্বীপপুঞ্জ, ক্যারিবিয়ান

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে মাত্র ২,০০০ জনসংখ্যার ছোট এই দ্বীপটিতে সাপ, বিষাক্ত গ্যাস কিংবা হাঙ্গরের উৎপাত নেই। তবুও কেন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে? এই দ্বীপটিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার কারণ গত ১০০ বছরে, ক্ষুদ্র এই দ্বীপটিকে অন্য যে কোন দ্বীপের চেয়ে বেশিসংখ্যক বার হারিকেন দ্বারা আঘাত করেছে।

হিয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলিয়া

লোকেরা কেন অস্ট্রেলিয়ার হিয়ার্ড আইল্যান্ডে ভ্রমণ করতে চায়না এর উত্তর সাপেক্ষে কিছু কারণ উল্লেখ করা যায়। প্রথমত, অ্যান্টার্কটিকার এই দ্বীপটি , পৃথিবীর অন্যতম শীতলতম ও প্রত্যন্ত দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়ত, এটি আগ্নেয়গিরির জন্য প্রসিদ্ধ। এখানে অবস্থিত বিগ বেন নামে পরিচিত আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ২৪৭৫ মিটার।

এন্টিপোডেস দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড

প্রতিকূল আবহাওয়া, হিংস্র বন্যপ্রাণীর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের এন্টিপোডেস দ্বীপপুঞ্জ। আগ্নেয়গিরি, শীতল আবহাওয়া, বন্য প্রাণীর মতো হিংস্র হাওয়ায় কারণে কেউ এই দ্বীপে ভ্রমণের আগ্রহ দেখায়না।

নর্থ ব্রাদার আইসল্যান্ড, নিউইয়র্ক

আমরা এখন যে দ্বীপটি নিয়ে কথা বলবো সেটি মোটেও  অপরিচিত কিংবা দূর্গম কোন দ্বীপ নয়, এটি নিউ ইয়র্ক সিটির  ইস্ট রিভারে অবস্থিত। মেন্টাল ফ্লাসের প্রতিবেদন অনুসারে এই দ্বীপটিতে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এনে রাখা হতো। বর্তমানে, নর্থ ব্রাদার আইসল্যান্ড পাখির অভয়ারণ্য ও মানুষের প্রবেশ এতে নিষিদ্ধ। যদিও ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ দ্বীপটির ভয়াবহতাকে ধরে রেখেছে।

পোভেলিয়া দ্বীপপুঞ্জ, ইতালি

নর্থ ব্রাদার আইসল্যান্ডের মতো এই দ্বীপেও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এনে রাখা হতো। প্রাচীন যুগ পার হয়েও অনেক বছর কেটে গেলেও এই দ্বীপকে ঘিরে অনেক পর্যটকদের ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেছে। তাই দেশটির সরকার এই দ্বীপে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।

বিকিনি আটল-মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের এই অংশে ১৯৪২ এবং ১৯৫৮ সালের মধ্যে ভারী পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল । এর ফলস্বরূপ, বিকিনি অ্যাটল অত্যন্ত দূষিত অবস্থায় রয়েছে, এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিপজ্জনক ফলাফল এখানো বয়ে বেড়াচ্ছে। এখানে জন্মানো উদ্ভিদ এবং ফলগুলো এখনো বিষাক্ত এবং খাওয়া যায় না। তাই এখানে জন সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

রামরি আইসল্যান্ড, মায়ানমার

রামরি দ্বীপ এখনো ১৯৪৫ সালে সংঘটিত একটি মর্মান্তিক ঘটনার জন্য পরিচিত. জাপানী সৈন্যরা লড়াই থেকে পিছিয়ে পড়ে জলভূমিতে আশ্রয় নিয়েছিলো। সেখানে তাদের উপর আক্রমণের জন্য লবণাক্ত জলের কুমি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। স্টুডেন্ট ফ্লাইটের মতে, গিনেস বুক অফ রেকর্ডস এখনো এই ঘটনাটিকে দ্য গ্রেটেস্ট ডিসাস্টার হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই ঘটনার কারণে এই দ্বীপে কেউ প্রবেশ করতে চায়না।

ম্যাকওয়ারি দ্বীপপুঞ্জ, তাসমানিয়া

বাজফিডের খবরে বলা হয়েছে, এই দ্বীপটি নিউজিল্যান্ডের উপকূলে এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। এখানে অনেক পেঙ্গুইনে বসবাস করে। প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এই দ্বীপে ৪০ জনের বেশি লোকের বসবাস সম্ভব  হতো না।

হাশিমা দ্বীপপুঞ্জ, জাপান

জাপানের হাশিমা দ্বীপ এখন পুরোপুরি নির্জন, তবে এটি একসময় সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ছিলো। ১৮৮৭ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এটি কয়লাখনি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অল দ্যাটস ইন্টারেস্টিংয়ের ব্যাখ্যা অনুসারে, পেট্রোলিয়াম দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে জাপানের এই কয়লার রাজধানীটি পরিত্যক্ত হয়েছিলো।

(Visited 312 times, 9 visits today)


শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে