mportant-inventions-made-by-mistake

Pragga Paromita / জানুয়ারী 13, 2021

ভুল করে আবিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো!

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভুল করে আবিষ্কার! তা আবার হয় নাকি? হ্যাঁ, অবাক হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই আছে যার আবিষ্কার হয়েছিল ভুল করেই, বা বলা যায় আবিষ্কারক তার নিজের অজান্তেই অন্য কিছু করতে গিয়ে এগুলো আবিষ্কার করে ফেলেছেন। পরবর্তীতে এর অনেক গুলোই বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে। চলুন আজ জেনে নিই এমনই কিছু ভুল করে আবিষ্কার এর গল্প!

পেনিসিলিন

১৯২৮ সালের কথা। একবার স্যার আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করছিলেন লন্ডনের একটি ল্যাবরেটরিতে। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি কিছুদিনের জন্য বেড়াতে যান স্কটল্যান্ডে। যাওয়ার সময় তিনি স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াগুলি একটি কাচের পাত্রে রেখে যান।

প্রায় সপ্তাহখানিক ছুটি কাটিয়ে যখন তিনি তার ল্যাবে ফেরেন, তখনই তিনি একদম চমকে ওঠেন। ভুলবশত তিনি তার ল্যাবের জানালা খুলে রেখেই চলে যান। খোলা জানালার পাশে পেট্রিডিশে রাখা ব্যাকটেরিয়াতে তিনি কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেন।

তিনি লক্ষ্য করেন খোলা জানালা থেকে আসা বাতাসের সাথে অনেক ধূলাও রুমে প্রবেশ করে। এগুলো ব্যাকটেরিয়া পূর্ণ পেট্রিডিশের ওপর একধরনের ছত্রাক সৃষ্টি করে। এগুলো নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে নিয়ে তিনি দেখতে পান এক অদ্ভুত জিনিস। এই পাত্রে জন্মানো একপ্রকার ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে। এই ছত্রাকগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম পেনিসিলিয়াম নোটেটাম, সেই থেকে তিনি এর নাম দিলেন পেনিসিলিন। পৃ্থিবীর সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত এই এন্টিবায়োটিক বিভিন্ন রকম ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমনের হাত থেকে রোগীকে রক্ষা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা করে এই ঔষধ।

লাইসোজাইম

আলেকজেন্ডার ফ্লেমিংকে এই ভুল করে আবিষ্কার এর মাস্টার বলা যায়। কারণ এর আগে আরো একবার তিনি ভুল করে আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। সেবার তিনি মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। কিন্তু কিছুতেই এটির প্রমান করতে পারছিলেন না। ১৯২১ সালে একদিন তিনি নিজের ল্যাবে কাজ করার সময় হঠাৎ হাঁচি দিয়ে ফেললেন। সাথে সাথেই কিছুটা সর্দিও পড়লো তার হাতের ব্যাকটেরিয়া ভরা পেট্রিডিশে। পরে তিনি লক্ষ্য করেন ওই ডিশে থাকা ব্যাকটেরিয়া সমূহ আর নেই। এ থেকেই তিনি লাইসোজাইমের বৈশিষ্ট আবিষ্কার করেন।

পেসমেকার

পেসমেকার হলো অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রন করার যন্ত্র। এই পেসমেকারের আবিষ্কারও হয়েছিল একটা ভুল থেকেই।

১৯৫৬ সালের কথা। প্রফেসর ডঃ উইলসন গ্রেটব্যাচ গবেষণা করছিলেন ফাস্ট হার্ট বিট রেকর্ড করার জন্য অসিলেটর তৈরী নিয়ে। অনেক বছর চেষ্টার পরেও তিনি যেন কিছুতেই তার মনের মতো কিছুই করতে পারছিলেন না। এভাবেই প্রায় বছর দুয়েক কেটে গেল। একদিন তিনি কাজ করতে গিয়ে তার তৈরীকৃ্ত যন্ত্রের জন্য যে ট্রানজিস্টর দরকার ছিল, ভুলে সেটি না লাগিয়ে অন্য একটি ট্রানজিস্টর লাগিয়ে ফেলেন। এরপর সুইচ অন করতেই চমকে ওঠার পালা। এই যন্ত্র থেকে এক অতি পরিচিত শব্দ ভেসে এল। এ যেন হুবহু মানুষের হৃদপিন্ডের ছন্দ! এরপর কিছুদিনের মধ্যেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে পেসমেকার।

কোকাকোলা

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় পানীয় কোকাকোলার ফর্মুলাও কিন্তু একদিন ভুল করে আবিষ্কার হয়েছিল। এই পানীয়র আবিষ্কারক জন স্মিথ পেমবার্টন পেশায় ছিলেন একজন হাতুড়ে ডাক্তার এবং রসায়নবিদ। একবার তিনি এক সিরাপ আবিষ্কার করেন এবং মাথা ব্যথার নিরাময়ে এই সিরাপটি ব্যবহার করতে লাগলেন। বেশকিছু দিন এটি ভালোই চলল।

একদিন হঠাৎ দোকানে এক লোক এলো ভীষন মাথা ব্যথা নিয়ে। পেমবার্টনও তাকে সিরাপটি বানিয়ে দিলেন, কিন্তু ভুলে তিনি সিরাপে ঠান্ডা পানির জায়গায় কার্বোনেটেড পানি মিশিয়ে দিয়ে ফেলেন। এই নতুন বানানো সিরাপ লোকটির অসাধারণ ভালো লেগে যায়। এরপর পেমবার্টন এই পানীয় আরো তৈ্রী করেন এবং বাজারজাতও করেন কিন্তু ভাগ্য ওনার সহায় ছিল না। তার বিনিয়োগ করা টাকা প্রথম বছর উঠে না আসায়, উপরোন্ত বেশ কিছু টাকা ক্ষতি হওয়াতে তিনি এর পেটেন্ট বিক্রি করে দেন। বেশ কিছু বছর লাগে মানুষের কাছে এটি পরিচিত করতে। তবে এটির জনপ্রিয়তা যে এখন সারা বিশ্বেই আকাশ ছোঁয়া তা বলাই বাহুল্য।

সেফটি পিন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস হলো সেফটি পিন। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে এর আবিষ্কারও হয়েছিল মনের ভুলেই।

সেফটি পিনের আবিষ্কারক ওয়াল্টার হান্ট একবার তার ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন। একদিন তিনি বসে বসে ভাবছিলেন কিভাবে এই ধার শোধ করা যায়। সে সময় কাকতালীয়ভাবেই তার হাতে ছিল একটি ধাতব তার। স্বভাবসুলভ ভাবেই হাতের ধাতব তারটি ঘুড়িয়ে পেচিয়ে তিনি বিভিন্ন আকার দিচ্ছিলেন আর ভাবছিলেন এই ঋণ মুক্তির উপায় কি। এমন সময় তার খেয়াল যায় হাতের তারটির ওপর। তিনি লক্ষ্য করেন তারটি এমন একটি রূপ পেয়েছে যাতে সহজেই এটি কোনো কাপড়ের টুকরোকে আটকে রাখতে পারে। এভাবেই আবিষ্কার হয়ে যায় আজকের দিনের জনপ্রিয় সেফটি পিন। এর পেটেন্ট বিক্রি করেই তিনি তার সমস্ত ধার শোধ করেছিলেন।

ললিপপ

ললিপপ আইসক্রিমের জনক সান ফ্রানসিসকোর ফ্র্যাঙ্ক ইপারসন। তবে এটি তিনি আবিষ্কার করেন মাত্র ১১ বছর বয়সে, খেলার ছলেই! একদিন বালক ফ্র্যাংক একটি গ্লাসে সোডাপপ পাউডারের সাথে পানি মিশিয়ে কাঠি দিয়ে নেড়ে খেলা করছিলেন। এর মধ্যেই মায়ের ডাক শুনে তিনি উঠে চলে যান।  কিন্তু প্রচন্ড শীতে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় বারান্দায় রাখা ওই দ্রবণ সম্পুর্ণ জমে যায়। পরের দিন সেই গ্লাস থেকে কাঠিসহ বরফ বের করে আনতেই আবিষ্কার হয় পৃথিবীর প্রথম ললিপপ আইস্ক্রিম।  এরপর ২০ বছর বয়সে তিনি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এর পেটেন্ট নেন এবং এর মাধ্যমেই প্রথম মানুষের সামনে আসে পপস্টিক আইস্ক্রিম বা ললিপপ।

এভাবে ভুল করে আবিষ্কার এর সংখ্যা নেহাতই কম নয়।  আমাদের অতি প্রয়োজনীয় আরো অনেক কিছু যেমন, এক্স-রে, মাইক্রোওভেন, পটেটো চিপস এমন আরো অনেক কিছুরই জন্ম  হয়েছে আবিষ্কারকের কোনো ভুল থেকেই!

(Visited 47 times, 47 visits today)


শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*