MD.Raju / জুলাই 29, 2020

আপনার শিশুকে প্রথম হাতের লেখা শেখাবেন কিভাবে

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে

আপনার বাচ্চা যখন প্রথম লিখতে শিখছে তখন এটি একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং হতাশার সময় হতে পারে। তবে আপনি যদি খুব ব্যস্ত না হন বা খুব বেশি চাপ সৃষ্টি  না করেন তবে এটি আপনার এবং আপনার বাচ্চার উভয়ের জন্য মজাদার হতে পারে। আপনার শিশুকে পেন্সিল বা কলম সঠিক ভাবে ধরতে উদ্বুদ্ধ করুন। আপনার শিশুকে আগ্রহী করতে আপনি মার্কার পেন ও রঙ পেন্সিল ব্যবহার কর‍তে পারেন।
শিশুকে প্রথম হাতের লেখা শেখানো ক্ষেত্রে অবিভাবকের করণীয় কয়েকটি  বিষয় নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

১) আপনার বাচ্চাকে রঙ পেন্সিল দিনঃ
আপনার বাচ্চাকে বিশেষত ছোট বাচ্চাদের জন্য তৈরি ক্রেওন রঙ পেন্সিল দিন। ক্রাইওন রং পেন্সিলগুলি সাধারণত ছোট এবং প্রশস্ত হয় তাই বাচ্চাদের জন্য এগুলো ধরা ও ব্যবহার করা সহজতর হয়।

২) একসাথে নেকলেস তৈরি করুনঃ
বড় পুঁতি ও রক সুতা ব্যবহার করে আপনার বাচ্চাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানাতে পারেন যেমন- নেকলেস, ব্যাগ, শোপিস ইত্যাদি।
এজন্য টেবিলের একটি বাটিতে কিছু পুঁতি রাখুন। নির্দিষ্ট মাপের কিছু রক সুতা কেটে নিন। এখন আপনার বাচ্চাকে সুতার ভিতর পুঁতিগুলো ভরতে বলুন। এভাবে সে নেকলেস, আংটি বানাতে পারবে।
এই কাজের ফলে আপনার সন্তানের হাতের গ্রিপ মজবুত হবে এবং সে দৃঢ়তার সাথে কাজ করতে সক্ষম হবে।

৩) তাদের ময়দা বা কাদার দলা নিয়ে খেলতে দিনঃ
সাধারণত সব শিশুরাই কাদার দলা নিয়ে খেলতে ভালবাসে। তাদের হাতে কাদা বা ময়দা দিয়ে ইচ্ছামত জিনিস বানাতে দিন। এই মাটির সাথে কাজ করা তাদের হাতের পেশী এবং দক্ষতা তৈরি করতে সহায়তা করে থাকে।

৪) আপনার বাচ্চাকে কীভাবে পেন্সিল ধরতে হবে তা দেখানঃ
আমরা সবাই সাধারণত কলম বা পেন্সিল ধরতে ট্রাইপড গ্রিপ ব্যবহার করে থাকি। তবে খুব নরম বা খুব শক্ত করে পেন্সিল ধরা ঠিক নয়। তাহলে পেন্সিল ব্যালেন্স করতে সমস্যা হবে। ট্রাইপড গ্রিপে কখনই খাড়া করে পেন্সিল ধরা যাবে না। তিনটি আঙ্গুল ও হাতের উপর ভারসাম্যের সঙ্গে ধরতে হবে পেন্সিলটি। শুধু মাত্র লেখা বা আঁকার সুবিধার জন্য নয় পেন্সিল সঠিকভাবে ধরার মাধ্যমে আমাদের ব্রেনের মোটর নিউরনগুলো সতঃস্ফুত ভাবে কাজ করে যা পেন্সিল স্কেচ এর জন্য সহায়ক।

৫) পেন্সিল বা কলম খুব শক্ত করে না ধরাঃ
পেন্সিলটি খুব শক্ত করে ধরলে আপনার বাচ্চাটি হাতে আঘাত পেতে পারে। এছাড়া লেখার কাগজ ছিঁড়ে যেতেও পারে।
কোনও বাচ্চাকে তার কব্জি আলগা করতে সহায়তা করার জন্য, সে লেখার সময় তার হাতের নরম কোন কিছুর গোলাকার দলা রাখতে পারেন।

৬) চাপের ভারসাম্যঃ
আপনার বাচ্চাকে পেন্সিলে কতটা চাপ প্রয়োগ করতে হবে তা বুঝতে সাহায্য করুন। খুব বেশি চাপ দিলে পেন্সিলগুলি ভেঙে যেতে পারে আবার খুব কম চাপ দিলে আপনার বাচ্চা কি লিখেছিল তা আপনি পড়তে পারবেন না।

৭) লিখতে শিখাকে মজাদার করে তুলুনঃ


আপনি যদি লেখার প্রক্রিয়াকে মজাদার করে তুলতে পারেন, তবে আপনার সন্তান নিজের ইচ্ছায় আনন্দের সাথে লিখতে শিখবে।
এজন্য আপনি বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন। যেমনঃ
আপনার বাচ্চাকে ট্রে বা প্যানে শেভিং ক্রিম দিয়ে লিখতে দিলে তা এই প্রক্রিয়াটিকে আরও মজাদার করে তুলবে। আপনি পুডিংও ব্যবহার করতে পারেন।


এছাড়া গরমের দিনে জলের বন্দুক ব্যবহার করতে দিয়েও আপনি আপনার বাচ্চাকে লিখতে উৎসাহিত করতে পারেন। তাকে একটি জলের বন্দুক দিয়ে কংক্রিটের উপর বিভিন্ন বর্ণ লিখতে বলুন। অক্ষরগুলি কত দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায় তা দেখে আপনার বাচ্চা অবাক হয়ে যাবে এবং লিখতে আরো বেশি আগ্রহী হবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে ভিজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

৮) বাজারে বর্তমানে বর্ণ নিয়ে বিভিন্ন খেলনা পাওয়া যায়। আপনার সন্তানকে এসকল খেলনা কিনে দিতে পারেন, এমনকি আপনি নিজেও তার সাথে এই বর্ণ নিয়ে খেলা খেলতে এবং সেগুলা দেখে দেখে লিখতে পারেন। বিশেষ করে বর্ণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পাজল গেম বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এসব গেম আপনার সন্তানের শিক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

৯) আপনার বাচ্চার নাম একটি কাগজে মার্কার পেন দিয়ে বড় অক্ষরে লিখুন। আপনার আঙুল দিয়ে অক্ষরগুলো সনাক্ত করতে বাচ্চাকে সহায়তা করুন। তারপরে আপনি তাকে পেন্সিল দিয়ে অক্ষরগুলো লিখতে বলুন।

১০) আপনার সন্তানের নাম বিন্দু বা ডট দিয়ে লিখুন এবং তাকে সেগুলি সংযোগ করতে বলুন।

সর্বোপরি প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজ বা খেলার ফাঁকে তাকে লিখতে উৎসাহিত করুন। লিখন প্রক্রিয়াকে তার সামনে আনন্দদায়ক ও মজাদার বিষয় রুপে উপস্থাপন করুন।

আজ আর নয়। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।
আসসালামু আলাইকুম।

(Visited 509 times, 22 visits today)


শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে

Comments

  • Kartik says

    দাদা, আমি বাচ্চাদের উপর লেখা খুজতেছিলাম গুগলে। তখন তোমাদের ব্লগ টি পেলাম।
    তোমার লেখা গুলো সত্যিই খুব গোছানো এবং শিক্ষামূলক। বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে লেখা সব কটি আর্টিকেল খুবই হেল্পফুল ও তথ্যভিত্তিক।
    আশা করি এধরনের আরো লেখা পাব।

Comments are closed.