Natural-Skincare

Tahmina / জুলাই 6, 2020

ত্বকের যত্নে যখন প্রকৃতির ছোঁয়া।

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাজারের কেমিক্যাল যুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করে আমাদের কমল ত্বকের ক্ষতি না করে, আমাদের রান্নাঘরেই এমন অনেক উপাদান আমরা ব্যবহার করতে পারি যা আমাদের ত্বকের জন্য অনেক উপকারি তো করেই তার সাথে ত্বককে করে তোলে চির লাবণ্যময় । আজ এমনিই একটি উপাদান নিয়ে কথা বলবো তা হলো বেসন

আদিকাল থেকে আমাদের দাদি-নানীরা রূপচর্চায় যেসকল প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতো তার একটি অন্যতম উপাদান হলো বেসন। বেসন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে আমাদের ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে, ত্বকের ছিদ্র গুলোকে ছোট করতেও বেসনের তুলনা নেই। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসনে ব্যবহার অনেকটা অপরিহার্য বলা চলে, তৈলাক্ত ত্বককে বেসন করে টানটান ও মসৃণ।
আজকে আপনাদের জন্য  ত্বকে বেসনের কিছু ব্যবহার তুলে ধরছি আসা করি উপকার পাবেন।

বেসন ও লেবুতে ত্বক পরিষ্কার:

আমাদের ত্বকের রোদে পোড়া কালচে ভাব দূর করতে বেসন আর লেবুর জুড়ি নেই। হাফ চামচ বেসনের সাথে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিক্স করে পুরা মুখে হালকা করে মালিশ করে দুই মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন বা দুই দিন পর পর করুন , ফলাফল নিজেই দেখতে পারবেন।

 

বেসন লেবুর রস ও টক দই:

লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও সাইট্রিক এসিড রয়েছে। আমরা তো জানি ভিটামিন সি আমাদের ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল রাখতে কতটুকু সাহায্য করে। আর সাইট্রিক এসিড ত্বক পরিষ্কার করতে ভূমিকা রাখে। টক দই ত্বকের যে কোন ব্যাকটেরিয়া ফাং-গাল ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। এক চামচ বেসন, এক চামচ লেবুর রস এবং এক চামচ টকদই মিক্স করে মুখে ও ঘাড়ে লাগান। শুকালে  ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি আপনার ত্বককে করবে নরম ও উজ্জ্বল। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন ব্যবহার করুন। যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা এটি ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার ত্বকে অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করবে।
ঘাড় ও আন্ডারআর্মে-স কালো দাগ নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেন এই দাগ দূর করতেও কিন্তু বেসন একটি বড় ভূমিকা রাখে।

বেসন,কাঁচা,হলুদ ও টক দইয়ের ব্যবহার:

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বেসন, কাঁচা হলুদের বাটা এবং টক দই মিক্স করে নিন। এরপর মিশ্রণটি ঘাড় ও কালো দাগ আছে এমন জায়গা গুলোতে লাগান। ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর মুছে তিলের তেল মালিশ করুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করুন।
প্রাকৃতিক ভাবেই মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে কে না চায়! সেই সমাধান যদি খুব সহজে হয়ে যায়!! হ্যাঁ, এর সমাধানও পাবেন বেসনের মাঝে।

 

 

বেসন ও মেথি গুঁড়ার ব্যবহার:

মেথি গুঁড়ার সাথেও পানি মিক্স করে যে সকল স্থানে লোম আছে সেখানে লাগান এবং ভালো করে শুকালে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটির ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রতিদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

নারীর বয়স আর পুরুষের বেতন নাকি কখনো জিজ্ঞাস করতে নেই। পুরুষ তার বেতন বলুক আর না বলুক একজন নারী কিন্তু তার বয়সের ছাপ শত চেষ্ঠায় দূর করতে চায়।
 সবাই চেষ্টা করে কিভাবে নিজেকে আরও কম বয়সী দেখানো যায়। আর বয়সের স্পষ্ট নির্দেশন দেখা যায় যখন মুখে বলি রেখা দৃশ্যমান হওয়া শুরু করে। 

বেসন ও মধুর ব্যবহার:

এক চামচ বেসনের সাথে সমপরিমাণ মধু মিক্স করে ১৫ মিনিট মুখে হালকা করে ঘষুন। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন করে ব্যবহার করুন, ধীরে ধীরে বলিরেখা কমে আসবে। শুষ্কতা কমে যাবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল ব্যবহার করতে পারেন।ত্বকের মৃত কোষ দূর করতেও বেসন কিন্তু ওস্তাদ।

বেসন ও কাঁচা দুধের ব্যবহার:

এক চামচ বেসনের সাথে পরিমাণ মতো কাঁচা দুধ মিক্স করে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের মৃত কোষের স্তর সরিয়ে ত্বককে করে তোলে প্রাণবন্ত ও সজীব। এতেও কিন্তু মুখে বয়সের ছাপ কম পড়ে।

পোড়া দাগ দূর করতে বেসন:

বেসন, গোলাপজল ও লেবুর রস মিশিয়ে রোদে পোড়া ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০মিনিট। শুঁকিয়ে আসলে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মেছতার দাগ দূর করতে কিন্তু বেসন বেশ কার্যকারী একটা উপাদান: 

বেসনের সাথে এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল মিশ্রণ করে মেছতায় লাগান। ২০মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন প্রথম দিকে প্রতিদিন ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে দাগ কমে আসলে সপ্তাহে প্যাকের ব্যবহার ও কমিয়ে আনুন।
আপনি যদি ত্বকে কোন প্রকার বাজারের ফেসওয়াস ব্যবহার করতে না চান। বেসন দিয়ে খুব সহজেই ঘরেই ফেসওয়াসের কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

ঘরেই ফেসওয়াসঃ

১ চামচ বেসন, ২ চামচ দুধ, সামান্য হলুদ ও দুই ফোঁটা নারিকেল তেল একসাথে মিক্স করে ফেসওয়াস হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন প্রতিদিন। এক বেলা করে।

সতর্কতা:

সবার ত্বক এক রকম নয়। সবার ত্বকে সব কিছু সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায় এমন নয় তাই অবশ্যই অন্যের কথা শুনে নয় নিজে যাচাই-বাছাই করে ত্বকের যত্ন করুন। আপনার একটু অসতর্কতা হয়তো আপনার ত্বকের বিরাট ক্ষতি করে দিতে পারে। প্রাকৃতিক অথবা কেমিক্যাল যেটি ব্যবহার করবেন কানের নিচের দিকে বা মুখের নিচে ঘাড়ের কাছে সামান্য টেস্ট করে নিবেন পণ্য/উপাদানটি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কিনা। আমাদের ত্বকতে সুস্থ সুন্দর সতেজ রাখার চেষ্টা আমরা সবাই করি কিন্তু একটু সর্তকতার সাথে এই কাজটি করলে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবো।

(Visited 23 times, 18 visits today)

শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*