নিয়তি ও জীবনের উদ্দেশ্য

“বুদ্ধিমানেরা তখন কথা বলে যখন তাদের কিছু বলার থাকে। বোকারা কথা বলে কারণ তারা ভাবে তাদের কথা বলতে হবে” – প্লেটো (দার্শনিক)

ইংরেজিতে একটি শব্দ আছে, ‘destiny’, যার বাংলা অর্থ হলো ‘নিয়তি’। শব্দটি খুব সহজ শোনা গেলেও তার অর্থ বা গভীরতা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। কি ঠিক বলছি?

আচ্ছা ধরুন আপনি যে এখন পৃথিবীতে নিজের একটি অস্তিত্ব রেখেছেন তা কিন্তু লক্ষ কোটি মানুষের নিয়তির ফল। আবার লক্ষ কোটি বছর পর যে মানুষটি নিজের অস্তিত্ব বিরাজ করবে তাতে আপনার নিয়তিরও কিছু অবদান থাকবে, তাই বলে যে পৃথিবীর অস্তিত্ব আরো লক্ষ কোটি বছর পর থাকবে তাও বলছি না।

আজকে আপনি যা খাচ্ছেন, যা পড়ছেন, যে ভাবে জীবনযাপন করছেন তা কিন্তু আপনার পূর্বপুরুষ ও তাদের পারিপার্শ্বিক মানুষ, পরিবেশ, ভৌগোলিক অবস্থান, এমনকি পশুপাখিরও নিয়তির পরিণতি, আপনি শুধু সেই নিয়তির বড় কোনো চক্রের একটি চাকা ঘুরাচ্ছেন মাত্র। এখন আজকে কোনো দেশের প্রধান বা কোনো মহান খেলোয়াড় যদি দাবি করে বসেন যে তিনি আজকে যে পর্যায়ে আছেন তা শুধুমাত্র তারই যোগ্যতার ফল তাহলে তা হবে নিতান্তই হাস্যকর।

destiny

কিছু উদাহরণ শুনি আমরা

উদাহরণ স্বরুপ রোনালদোর পূর্বপুরুষ যদি পর্তুগালে স্থানান্তর না হয়ে বাংলাদেশে আসত ও রোনালদোর জন্ম যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে তার অবস্থান কোথায় হতো ভেবে দেখেছেন? বা যদি ইংরেজ শাসন আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষে বর্তমান হতো তাহলে নরেন্দ্র মোদিই বা কোথায় থাকত? এইজন্যই বলছি প্রতিটি আলাদা আলাদা মানুষের জীবনই অনেক ক্ষুদ্র, অতি তুচ্ছ। তবুও এই জীবনের উদ্দেশ্য অনেক মহৎ।

নিয়তির সঙ্গে জীবনের  সম্পর্ক

নিয়তির সঙ্গে জীবনের উদ্দেশ্য এর সম্পর্কও কিন্তু অনেক গভীর। জীবন অনেক ছোট হওয়ার কারণে এর মধ্যেই একজন মানষের যত ধরণের অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব তা করতে হবে। তবেই জীবন হবে সার্থক। আজকাল অনেকেই আবার বিনা কারণে ডিপ্রেসড অর্থাৎ অবসাদগ্রস্ত হয়ে বসে থাকে, তাদের উদ্দেশ্যেই বলছি, আপনারা যদি গভীরভাবে নিজেকে প্রশ্ন করেন যে এটা আপনি কেন করছেন তখন আপনি কোনো সঠিক জবাবই পাবেন না এবং নিজেকে অনেক ছোট মাপের মানুষ বলে মনে হবে।

হ্যাঁ, আপনাদেরকেই বলছি, আপনার জীবনের উদ্দেশ্য অনেক মহৎ। কোনো মানুষ পারিপার্শ্বিক কোনো ঘটনার মধ্যে অবশ্যই আবদ্ধ নয়। সময়ের আগে বোকামি থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসুন। তা না হলে পরবর্তীতে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে।

আপনি কখনোই জানবেন না কখন আপনার মৃত্যু আসবে৷ তাই বলছি, নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগান, নিজের কাজ ভালোভাবে করুন, দেশের কাজে পুরোদমে লেগে যান৷ নিজের জীবনটার উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন এবং তা বৃথা হতে দিবেন না৷ জীবনের উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই আপনার জৈবিক চাহিদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়৷ কারণ সব মানুষের মধ্যেই একটি জিনিসই সাধারণ এবং তা হলো জৈবিক ও ইন্দ্রিয় চাহিদা৷
এখন উপলব্ধি করছি যে জনাব মোতাহের হোসেন চৌধুরী একটি কত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন যে, “পায়ের কাটার দিকে বারবার নজর দিতে হলে হাটার আনন্দ উপভোগ করা যায় না, তেমনি অন্নবস্ত্রের চিন্তায় হামেশা বিব্রত হতে হলে মুক্তির আনন্দ উপভোগ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।” জীবনের সেই উদ্দেশ্য খোঁজার সাথে সাথে তার অনেকটাই নিয়তির উপরও ছেড়ে দেওয়াটা আবশ্যক। কারণ পাখির পালক খোলা বাতাসে ছেড়ে দিলে যেরকম তা অজানা পথে যাওয়া শুরু করে তেমনি নিয়তি আপনাকে কখন সফলতার দিকে ঠেলে দিবে আপনি টেরও পাবেন না।

Similar Posts