প্রতিদিন কিভাবে সব কাজ করা সম্ভব | এই ৫টি স্টেপস ফলো করুন!

অনেকের জীবনেই হয়ত এমনটা প্রতিদিনই হয় যে, যখন আপনি রোজ সকালে উঠেন, ভাবেন যে আজকের দিনটা সিওর প্রডাক্টিভলি ইউজ করবেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না বরং সারা দিন কেটে যায় নানা অকাজে এবং আলস্যে। আর এভাবেই জীবনের মূল্যবান দিনগুলো একের পর এক শেষ হয়ে যাচ্ছে , কিন্তু সারাটা দিন আপনি যেভাবে কাটাতে চান তা আর কখনোই সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।

যদি আপনিও এই প্রবলেমে ফেঁসে থাকেন তো DAVID ALLEN এর বই Getting Things DONE আপনাকে অনেক হেল্প করবে। আজ এই বিষয়ে কিছু আইডিয়া শেয়ার করবো। চলুন শুরু করা যাক-

আমাদের ব্রেইন হার্ডডিস্ক-এর মত শুধু ইনফরমেশনগুলোকে হোল্ড করার জন্য না বরং একটা কম্পিউটার র‍্যামের মত ইনফরমেশনগুলোকে প্রসেসিংয়ে হেল্প করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যেটাতে একসাথে বেশি অ্যাপ্লিকেশন খুলে দিলে পারফরম্যান্স স্লো হয়ে যায়। সকালে উঠেই অজান্তে আমরা মাথার মধ্যে দশ-বারোটা অ্যাপ্লিকেশন একসাথে খুলে নিয়ে থাকি।

‘আজকে কি পড়তে হবে, কি বলতে হবে, কোথায় যেতে হবে, ফেইসবুকে কি করতে হবে, হোয়াটসঅ্যাপে কাকে কি বলতে হবে? ইত্যাদি।’

মানে কোনো শেষ নেই। যার ফলে, ওভারলোড হওয়ার কারণে ব্রেইন হ্যাং করতে শুরু করে। আর শেষ অব্দি কোনো অ্যাপ্লিকেশনই এফিশিয়েন্টলি প্রসেসিং হতে পারেনা। এই প্রবলেম থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে আপনার ব্রেইনে নতুন একটা এপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হবে যেটার নাম হচ্ছে GETTING THINGS DONE বা G.T.D SYSTEM। এই সিস্টেম পাঁচটি স্টেপস-এ কাজ করে।

 

প্রথম স্টেপ হল কালেকশন

সকালে উঠেই আপনাকে একটা বড় ডাব্বা নিতে হবে। আর মাথা থেকে সব আবর্জনাগুলোকে বের করে ওই ডাব্বাতে জড়ো করতে হবে। এই ডাস্টবিনটা ফিজিক্যাল যেমন কোনো নোটবুক, বা ডিজিটাল যেমন আপনার স্মার্টফোন বা যেকোনো কিছু হতে পারে। দশ মিনিটের জন্য যেখানে খুশি গিয়ে আরাম করে বসতে হবে আর যে যে জিনিসগুলো মাথায় আসছে যে কাজগুলো আজ বা একটি সঠিক তারিখে আপনাকে কমপ্লিট করতে হবে সেই সবগুলোকে একটার পর একটা লিখে ফেলতে হবে। যাতে আপনি এটা জেনে অন্তত একটু হলেও মনে শান্তি পান, যে যে কাজগুলো আপনাকে করতে হবে সেগুলো আপনি নিজের মাথার বাইরে এক জায়গায় লিখে নিয়েছেন। এখন আর একটাও মিস হওয়ার কোনো চান্স নেই।

 

দ্বিতীয় স্টেপ হলো প্রসেসিং

এবার ওই লিস্টে প্রতিটা আইটেমের পাশে আপনাকে লিখতে হবে একটা সাজেস্টিং সলিউশন।

যেমন- ফর এক্সাম্পল,

আইটেম নাম্বার 1. এক্সারসাইজ করা। সলিউশন- সকালে ফ্রেশ হওয়ার পর দশটা পুশ-আপস আর দশটা সেট অ্যাপস।

বা আইটেম নাম্বার 2. আম্মুর জন্য নির্দিষ্ট তারিখে আম্মুর পছন্দের জিনিসটা কিনতে হবে। সলিউশন- ওই তারিখে গিয়ে মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করে নেওয়া।

এভাবে আপনাকে আপনার পুরো লিষ্টের প্রসেসিং কমপ্লিট করতে হবে। এই দ্বিতীয় স্টেপ-টা কমপ্লিট করতে আপনার খুব বেশি হলে হয়তো আট-দশ মিনিট সময় লাগবে।

 

তৃতীয় স্টেপ হল অরগানাইজ

এবার আপনাকে পরবর্তী নির্দেশনা কি হবে সেই হিসাব মতো এই লিস্ট-টাকে অরগানাইজ করতে হবে। যেমন- এক নাম্বার, ফ্রেশ হওয়ার পর এক্সারসাইজ।

দুই নাম্বার, XYZ এই বইয়ের ABC চ্যাপ্টার কমপ্লিট করা।

তিন নাম্বার, UVW ফ্রেন্ডকে কল করা, ইত্যাদি।

এবার আপনি এই লিস্ট অনুযায়ী পুরো দিন একের পর এক কাজ শেষ করতে থাকুন। এই স্টেপ-টা কমপ্লিট করতে হয়তো আপনার আরো পাঁচ মিনিট সময় লাগবে।

 

চতুর্থ স্টেপ হলো রিভিউ

শেষবার, পুরো লিস্ট-টাকে একবার চেক করে নেওয়া, যদি কোনো কাজ বাদ পড়ে গিয়ে থাকে তো। বা যদি কোনো বেটার সলিউশন সম্ভব হয়, তো সেটাকে লাস্ট একবার কনফার্ম করে নেওয়া, যাতে মাথার মধ্যে কিচিরমিচির পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই স্টেপ-টা কমপ্লিট করতে আপনার হয়তো আরো পাঁচ মিনিট সময় লাগবে।

 

পঞ্চম বা লাস্ট স্টেপ হলো ডু ইট!

আমার সাথে এরকমও অনেকবার হয়েছে, আমি সকালে উঠে পুরো লিস্ট-টাকে বানালাম, তারপর ভাবলাম, একবার ফেইসবুকের নোটিফিকেশনগুলো চেক করি নিই, তারপর পুরো দিন লিস্ট অনুযায়ী চলবো। ওই যে আমি ফেইসবুকে গেলাম, পরবর্তী এক ঘন্টা ওখানেই ঘুরতে ঘুরতে কেটে গেলো আর তারপর এইসব লিস্ট-টিস্ট সব ভুলে, লিস্টের বাইরে কাজ করতে লেগে গেলাম।

 

তো লাস্ট স্টেপটা যতটাই অন-ইম্পর্টেন্ট মনে হচ্ছে আসলে এটা ততটাই ইম্পর্টেন্ট। আপনাকে লিস্ট শেষ করে সেই মুহূর্তেই সেটাকে ফলো করতে শুরু করতে হবে।

 

তাহলে G.T.D সিস্টেমকে এপ্লাই করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে:

  • প্রথমত, সবার আগে সমস্ত আবর্জনাগুলোকে মাথার থেকে বের করে কোথাও একটা লিখে নেওয়া।
  • দ্বিতীয়ত, ওই লিস্টে প্রসেসিং করা, মানে সাজেস্টিং সলিউশন লেখা।
  • তৃতীয়ত, পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সেটাকে অরগানাইজ করা।
  • চতুর্থত, লিস্ট-টা যে একদম পারফেক্ট সেটা শিওর হওয়ার জন্য একবার রিভিউ করে নেওয়া।
  • এবং লাস্ট এন্ড মোস্ট ইম্পর্টেন্ট হলো, সেটাকে ফলো করা।

 

G.T.D সিস্টেমটা তৈরি করতে টোটাল হয়তো আপনার খুব বেশি হলে ত্রিশ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু এই ত্রিশ মিনিটের পরিশ্রম আপনাকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিতে পারে যেটা হয়তো আপনি ত্রিশ দিন চলে গেলেও করে উঠতে পারতেন না।

যদি তবুও আপনার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে অন্তত দুই দিনের জন্য একবার ট্রাইল নিয়ে দেখুন। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে এই দুই দিনের মধ্যেই আপনি নিজেই জেনে যাবেন এই সিস্টেমটা কতটা হেলফুল।

আপনি হয়তো এবার বলবেন, আমি তো সকালে ন’টায় ঘুম থেকে উঠি, তারপর তাড়াতাড়ি করে আমাকে অফিস বা কলেজ যেতে হয়। আর তখনই ত্রিশ মিনিট বের করা আমার জন্য খুবই মুশকিল। তো ঠিক আছে, আপনি রাতে শোয়ার আগে পরের দিনের লিস্ট-টা বানিয়ে রাখতে পারেন।

 

Benjamin Franklin এর এই কথাটা সবসময় মনে রাখবেন, If you fail to plan, you are planning to fail!

Similar Posts

2 Comments

Comments are closed.