কিডনি নস্ট হবার জন্য এই ৮টি কারণই যথেষ্ট

কিডনি প্রতিদিন প্রায় ১৭০ লিটার রক্ত পরিশোধিত করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। দুটো কিডনিতে প্রায় ২০-২৫ লাখ ছাঁকনি রয়েছে, যা অনবরত রক্তকে পরিশোধিত করে যাচ্ছে।

বছরের পর বছর, দিনের পর দিন কিডনি ঠিক এভাবেই ছাঁকনির কাজ করে চলে। লবন, বিষ এবং অবাঞ্ছিত পদার্থ শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু  আমাদের কিছু অভ্যাস নিজের অজান্তে আমাদের মূল্যবান কিডনিকে বিকল করে দিচ্ছে। চলুন জেনে নেই সেই ৮টি কারন।

কিডনি নস্ট হবার জন্য এই ৮টি কারণই যথেষ্ট

১। পর্যাপ্ত পানি পান না করাঃ

আমাদের অনেকের পানি পানে যথেষ্ট অনিহা আছে। সব ধরনের খাবার খাই কিন্তু পানি আধা গ্লাসের বেশী কখনই না।

২। অতিরিক্ত লবণ খাওয়াঃ

আমরা প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রামের মতো লবণ খাই, কিন্তু ৬ গ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। লবণে অনেক বেশী পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। এর বেশির ভাগকে আমাদের শরীর থেকে বের করার দরকার হয়।তাই যখন আমারা অতিরিক্ত লবণ খাই আমাদের কিডনিকেও অতিরিক্ত স্ট্রেস এ পড়তে হয়।

 

কিডনি নস্ট হবার জন্য এই ৮টি কারণই যথেষ্ট

৩। এলকোহল পান করাঃ

মদ একটা বিষাক্ত পানীয় যা আমাদের কিডনি এবং লিভারের স্বাভাবিক কাজে অনেক বেশী চাপ প্রয়োগ করে। অতিরিক্ত মদ্যপান আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে যা আমাদের মুত্রনালীতে জমা হয় যা কিডনি  ড্যামেজ হবার অনেক বড় কারণ।

৪। ডায়েটে অনেকে বেশী প্রোটিন রাখাঃ

সাধারণত প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকারি কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন খেলে তা কিডনির উপর মেটাবলিক লোড বা বিপাকীয় কাজে অনেক বেশী স্ট্রেস তৈরি করে। অনেকদিন ধরে এমন চলতে থাকলে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৫। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহনঃ

খুব বেশী ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার যেমন চকলেট, কফি, সফট ড্রিঙ্কস এবং এনার্জি ড্রিংক হাই ব্লাড প্রেসারের জন্য দায়ী এবং তা কিডনিতে তলানির সৃষ্টি করে যা এক সময় কিডনি বিকল করে দিতে পারে।

৬। স্মোকিং বা ধূমপান করা ঃ

সিগারেটের ধোঁয়া ব্লাড প্রেসার এবং অতিরিক্ত হৃদকম্পনের জন্য দায়ী। তাছাড়া স্মোকিং কিডনির রক্তনালিগুলোকে সংকোচিত করে দেয়, কিডনির বিকল হওয়াকে আরও দ্রুততর করে। এবং সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়।

কিডনি নস্ট হবার জন্য এই ৮টি কারণই যথেষ্ট

৭। ব্লাডার বা মুত্রথলি অনেক সময় ধরে পূর্ণ করে রাখাঃ

আমাদের অনেকের এই অভ্যাস আছে একদম শেষ সময় পর্যন্ত আমরা প্রস্রাব আটকে রাখি। বিশেষকরে মেয়েরা। স্কুল, কলেজ বা অফিসে মন মতো টয়লেট না পেলে বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত তা ধরে রাখায় তাদের জুড়ি নাই। অনেকক্ষণ ব্লাডার পূর্ণ থাকলে তা কিডনির প্রবাহে উল্টো চাপ প্রয়োগ করে যা কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে

৮। পেইন কিলার খাওয়াঃ

আমরা অনেকেই আছি যারা সামান্য ব্যথায় ,মুড়ির মতো পেইন কিলার ট্যাবলেট খাই। প্রতিদিন ব্যাথানাশক ট্যাবলেট খান এমনও অনেকেই আছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে এইভাবে পেইন কিলার গ্রহণ করলে তা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।

তাহলেই বুঝতেই পারছেন আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস আমাদের মূল্যবান কিডনি জোড়াকে কতটা ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই সতর্ক হওয়া জরুরি এবং অন্যকেও সতর্ক করা দরকার।

Similar Posts